প্রকাশিত: Thu, Mar 21, 2024 5:42 AM
আপডেট: Thu, Jun 4, 2026 5:16 AM

[১]কলেজ ছাত্রী মুনিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন বসুন্ধরার এমডি আনভীরসহ ৮ জন

এম.এ. লতিফ, আদালত প্রতিবেদক: [২] বুধবার (২০ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক শওকত আলীর আদালত বাদীপক্ষের নারাজি ও আনভীরের শুক্রাণু টেস্টের আবেদন নাকচ করে পিবিআই-এর দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মোসারাত জাহান মুনিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরসহ ৮ জনকে।

[৩] অব্যাহতি পাওয়া অপর আসামিরা হলেন-আনভীরের বাবা আহমেদ আকবর সোবহান, মা আফরোজা সোবহান, স্ত্রী সাবরিনা, শারমিন, সাইফা রহমান মিম, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং ইব্রাহিম আহমেদ রিপন।

[৪] সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রেজাউল করিম ‘আমাদের নতুন সময়’কে এ সকল তথ্য নিশ্চিত করেন।

[৫] বাদী পক্ষের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন ‘আমাদের নতুন সময়’কে বলেন, এ আদেশে তারা সংক্ষুব্দ,  এবিষয়ে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।

[৬] এর আগে রোববার (১০ মার্চ ) বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রী মুনিয়া হত্যা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বাদীর নারাজি আবেদনের শুনানি শেষে মামলাটি বুধবার আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

[৭] ওই দিন নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল- ৮ এর বিচারক শওকত আলীর আদালতে কলেজ ছাত্রী মুনিয়া হত্যা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি আবেদনের শুনানিতে অংশ নেন  বাদী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন ও এডভোকেট মাসুদ সালাউদ্দিন। শুনানিতে তারা তদন্ত কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেন। 

[৮] আদালতে বাদী পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, “মুনিয়ার মরদেহের ময়না তদন্ত ও সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুনিয়ার পোশাকে পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া গেছে’। পিবিআই এর তদন্তেও এটা প্রমাণিত হয়েছে। একমাত্র সায়েম সোবহান আনভীর ছাড়া ওই ফ্লাটে আর কারও যাওয়ার অনুমতি ছিলনা। তাহলে বলা যায় এ শুক্রাণু মামলার প্রধান আসামী সায়েম সোবহান আনভীরের”। অথচ প্রতিবেদনের শেষ অংশে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি”।

 [৯] ওই দিন বাদী পক্ষের অন্যতম আইনজীবী এডভোকেট মাসুদ সালাউদ্দিন জানিয়েছিলেন, “এদিন আদালতে আইনের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে আসামী পক্ষের একঝাক আইনজীবী বক্তব্য রাখার চেষ্টা করলে বিজ্ঞ আদালত তাতে সায় না দেয়ায় তারা কোন বক্তব্য দিতে পারেননি। কারণ তদন্ত প্রতিবেদন আদালত গ্রহণ করার পূর্বে আসামী পক্ষ এ মামলায় কোন প্রকার বক্তব্য দেয়া আইনে নিষেধ রয়েছে”।

[১০] তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ‘মামলার প্রধান আসামী সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ও ধনাঢ্য ব্যাক্তি বিধায় তার শুক্রানুর ডিএনএ টেস্ট করার প্রয়োজন নাই বলে মনে করেন তদন্ত কর্মকর্তা’। 

[১১] এ বিষয়ে বাদী পক্ষের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন বলেছিলেন, “আইনে ধনী গরীব বলে কোন কিছু নেই, আইনের চোখে সবাই সমান”। এ বিষয়ে শুনানি চলাকিলীন সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে আনভীরের শুক্রানুর ডিএনএ টেস্ট করে মুনিয়ার পোশাকে পাওয়া শুক্রানুর ডিএনএ’র সাথে মিলে কিনা তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার আদেশের জন্য আদালতে সম্পুরক আবেদন জমা দেয়া হয় বলে এডভোকেট মাসুদ সালাউদ্দিন ‘আমাদের নতুন সময়’কে জানিয়েছিলেন।   

[১২] ব্যারিস্টার সারোয়ার আদালতে আরও বলেন, পিবিআই এর তদন্ত প্রতিবেদনে এজাহারের বক্তব্যের ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। ফরেনসিক প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী ‘ভিক্টিম মুনিয়াকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। তার অন্তর্বাস ছেঁড়া ছিল, গোপনাঙ্গে আঘাত জনিত চিহ্ন ছিল। ধর্ষণের জন্য ধ্বস্তাধস্তি করলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়’। এসব বিষয়গুলি কিছুই তারা পরিস্কার করেনি। 

[১৩] বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মাসুদ সালাউদ্দিন ‘আমাদের নতুন সময়’কে আরও জানিয়েছিলেন, বাদী পক্ষের আইনজীবীগণের বক্তব্য শুনে এক পর্যায়ে বিচারক বলেন- “তদন্ত সংস্থা পিবিআই’য়ের কাছে এটা আশা করিনি। এত প্রমাণ থাকার পরও তদন্ত কর্মকর্তা কীভাবে সব আসামীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়?”

[১৪] এদিন কার্যবিধির ২২ ধারায় মুনিয়ার বোন ও মামলার বাদী নুসরাত জাহানের জবানবন্দী আদালত রেকর্ড করেন। বাদী তার জবানবন্দীতে বলেন, “ বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর শুধু তার বোন মুনিয়াকেই নয়, তার সাথে মুনিয়ার গর্ভে আনভীরের অনাগত সন্তানকেও হত্যা করা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গেছে”। সম্পাদনা: ইকবাল খান